জৈনধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব মহাবীর জয়ন্তী (Mahavir Jayanti 2026) পালিত হতে চলেছে। এই দিনটি জৈনধর্মের ২৪তম তথা শেষ তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীরের জন্মবার্ষিকী হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে উদযাপিত হয়। বর্ধমান নামেও পরিচিত ভগবান মহাবীর জৈনধর্মের মৌলিক নীতিগুলি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর সেই আদর্শ আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেখায়। ভারত ও নেপাল ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের জৈন সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই উৎসবটি ধুমধাম করে পালন করেন। ২০২৬ সালে ভগবান মহাবীরের ২৬২৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হতে যাচ্ছে।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ভগবান মহাবীর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটি প্রতি বছর মার্চ বা এপ্রিল মাসের কোনো একদিনে পড়ে। এই বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে মহাবীর জয়ন্তী (Mahavir Jayanti 2026) আজ ৩০ মার্চ, সোমবার পড়েছে। দৃক পঞ্চাঙ্গের তথ্য অনুযায়ী ত্রয়োদশী তিথি শুরু হবে ৩০ মার্চ সকাল ৭টা ০৯ মিনিটে। এই তিথি সমাপ্ত হবে পরের দিন অর্থাৎ ৩১ মার্চ সকাল ০৬টা ৫৫ মিনিটে। তবে উদয়া তিথির গুরুত্ব অনুযায়ী মঙ্গলবারেই মূল উৎসব পালিত হবে।
আরও পড়ুন: সুস্থ থাকার চাবিকাঠি যোগব্যায়াম, এই ৫টি ভুলের জন্য ফল পেতে দেরি হচ্ছে!
খ্রিস্টপূর্ব ৫৯৯ অব্দে বর্তমান বিহারের কুণ্ডগ্রামে এক রাজপরিবারে বর্ধমানের জন্ম হয়েছিল। তাঁর পিতার নাম ছিল রাজা সিদ্ধার্থ এবং মাতার নাম রানী ত্রিশলা। ‘মহাবীর’ শব্দের অর্থ হল ‘মহা নায়ক’। রাজকীয় বিলাসিতা ও জাগতিক সুখ ত্যাগ করে তিনি সত্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ সাধনার পর তিনি ‘কেবল জ্ঞান’ বা পরম জ্ঞান লাভ করেন। এরপরই তিনি একজন আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। জীবনের পরবর্তী ৩০ বছর তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে তাঁর দর্শন প্রচার করেছিলেন।
জৈনধর্মের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ বা নীতি ভগবান মহাবীরের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এগুলি হল অহিংসা বা কারো ক্ষতি না করা এবং সত্য বা সর্বদা সত্য কথা বলা। এছাড়া তিনি অচৌর্য বা চুরি না করা এবং ব্রহ্মচর্য পালনের শিক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ নীতি ছিল অপরিগ্রহ বা কোনো বস্তুর প্রতি আসক্তি ত্যাগ করা। এই পঞ্চ মহাব্রত আজও জৈনধর্মাবলম্বীদের জীবন পরিচালনার মূল মন্ত্র। তাঁর অহিংসা ও করুণার বাণী আধুনিক যুগেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
মহাবীর জয়ন্তীর (Mahavir Jayanti 2026) দিন জৈন মন্দিরগুলি বিশেষ সাজে সজ্জিত করা হয়। ভক্তরা মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন এবং শাস্ত্র পাঠ ও ধ্যানে মগ্ন থাকেন। এই দিনে দাতব্য কাজের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয় এবং দরিদ্রদের অন্ন ও বস্ত্র দান করা হয়। এই উৎসবের সবথেকে বড় আকর্ষণ হল জমকালো রথযাত্রা। ভগবান মহাবীরের মূর্তিকে একটি সুসজ্জিত রথে বসিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। অনুগামীরা স্তোত্র পাঠ করতে করতে এই মিছিলে সামিল হন। শান্তি ও মৈত্রীর বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে ভক্তরা এই পবিত্র দিনটি উদযাপন করেন।
চৈত্র সংক্রান্তির (WB Weather Update April) শেষ লগ্নে এসে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া যখন চূড়ান্ত অস্বস্তিকর হয়ে…
সোমবার নয়ডায় শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের (UP govt hikes daily wages) জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এনসিআর-এর…
১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার: আজ মঙ্গলবার বাংলা বছরের শেষ দিন (Rashifal Bangla) অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি।…
ভারতের মোটরসাইকেল বাজারে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে বাজাজ অটো তাদের জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ বাইক ডোমিনার ৪০০-এর একটি…
ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle Cremated…
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (পূর্বনাম টুইটার) তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য (Elon Musk's X…