দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামের মাঝে সাধারণ মানুষের ওপর ফের মূল্যবৃদ্ধির কোপ। পেট্রল এবং ডিজেলের লাগাতার দাম বাড়ার পর এবার আমজনতার পকেটে বড়সড় টান ধরাল কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজি (CNG Price Hike)। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিএনজি গ্যাসের দাম যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, তাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। মঙ্গলবার ফের এক ধাক্কায় কেজি প্রতি ২ টাকা করে বাড়িয়ে দেওয়া হল এই গ্যাসের দাম, যা এদিন থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়ে গিয়েছে।
একলাফে অনেকটা দাম বাড়ল সিএনজি-র (CNG Price Hike)
পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, মাত্র ১১ দিনের মধ্যে এই নিয়ে চতুর্থবার সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি ঘটল। আর সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহে কেজি প্রতি সিএনজির দাম এক লপ্তে বেড়ে গিয়েছে ১১ টাকা। মূলত অটো এবং ছোট বাণিজ্যিক গাড়িগুলিতে এই পরিবেশবান্ধব গ্যাস ব্যবহৃত হয়। ফলে এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে আগামী দিনে অটো ও ক্যাবের ভাড়া হুহু করে বাড়বে বলেই প্রবল আশঙ্কা করছেন নিত্যযাত্রীরা।
মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে প্রতি কেজি সিএনজির (CNG Price Hike) দাম ২ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নয়া দাম কার্যকর হওয়ার পর দিল্লিতে এখন প্রতি কেজি সিএনজির মূল্য গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা ০৯ পয়সায়। যদিও স্বস্তির বিষয় এই যে, মঙ্গলবারের এই দফায় কলকাতায় সিএনজির দাম নতুন করে বাড়েনি। তবে নতুন করে দাম না বাড়লেও তিলোত্তমায় সিএনজির যা বর্তমান হার, তা দিল্লির তুলনায় অনেকটাই বেশি। কলকাতায় বর্তমানে প্রতি কেজি সিএনজি বিকোচ্ছে ৯৩ টাকা ৫০ পয়সায়।
আরও পড়ুন: পাঁচ দিনের ব্যবধানে ফের মহার্ঘ জ্বালানি! পেট্রল-ডিজেলের দাম মেটাতে নাভিশ্বাস আমজনতার
বিগত কয়েক দিনের খতিয়ান যদি দেখা যায়, তবে বোঝা যাবে পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক। গত রবিবারও কেজি প্রতি সিএনজির দাম ১ টাকা করে বেড়েছিল। তার ঠিক আগে গত শুক্রবারও একইভাবে ১ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। আর এই মূল্যবৃদ্ধির পর্ব শুরু হয়েছিল গত ১৫ মে থেকে। একলাফে ৩ টাকা করে প্রতি কেজিতে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সিএনজির (CNG Price Hike) এই মহাসঙ্কটের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ সোমবারই দেশজুড়ে একলাফে অনেকখানি বাড়ানো হয়েছে পেট্রল এবং ডিজেলের দাম। বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনী পর্ব মেটার পর থেকেই যেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর হিড়িক পড়ে গিয়েছে। গত ১৫ মে দেশে একধাক্কায় প্রায় ৩ টাকা প্রতি লিটার বেড়েছিল পেট্রলের মূল্য। এরপর ১৯ মে আরও ৯০ পয়সা করে বাড়ানো হয় জ্বালানি তেল। ২৩ মে, শনিবার ফের ৮৭ পয়সা দাম বাড়ানো হয় পেট্রলের। সেই ধারা বজায় রেখেই সোমবার আরও প্রায় ৩ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয় জ্বালানির দর। যার জেরে কলকাতায় পেট্রলের লিটার প্রতি নতুন দাম গিয়ে ঠেকেছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সায়। আবার লিটার পিছু ডিজেলের দর হয়েছে ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা। যা সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পেট্রোপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধির পর্ব এখানেই শেষ নয়। ভারতে অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম কমার কোনও সম্ভাবনা তো নেই-ই, উল্টে তা আরও বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। একধাপে বিপুল দাম না বাড়িয়ে আমজনতার অসন্তোষ এড়াতে দফায় দফায় এই দাম বাড়ানো হতে পারে। আন্তর্জাতিক স্তরে যুদ্ধের পর থেকেই বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বাড়লেও ভারতে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের কারণে সেই দামে লাগাম টেনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন মিটতেই কেন্দ্র ধীরে ধীরে দাম বাড়ানোর পর্ব শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে টান এবং এতদিন ধরে হওয়া লোকসান সামাল দিতে তেল বিক্রয়কারী সংস্থাগুলি লিটারপিছু জ্বালানির দাম অন্তত ৩৩ টাকা করে বাড়াতে চাইছে। ফলে আগামী দিনে যাতায়াত খরচ যে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।
