দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময়ের জট অবশেষে কাটল। আশার আলো দেখতে চলেছে কলকাতা মেট্রোর পিঙ্ক লাইন (বরানগর-ব্যারাকপুর) প্রকল্প (Baranagar-Barrackpore Metro)। বরানগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ডায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণের জন্য সম্প্রতি প্রায় ১,৫৮৭.৩ কোটি টাকার টেন্ডার প্রকাশ করেছে মেট্রো রেলওয়ে। কলকাতা পৌর সংস্থা (KMC) নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি দেওয়ার পরেই ত্বরান্বিত হয়েছে এই আইনি ও অবকাঠামোগত প্রক্রিয়া।
বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রোর কাজ শুরু হচ্ছে (Baranagar-Barrackpore Metro)
এখন স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন আসতে পারে, এতদিন প্রকল্পের কাজ থমকে থাকার কারণ কী? এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, বিটি রোডের নিচ দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পানীয় জলের পাইপলাইনের জটিলতার কারণেই এতদিন থমকে ছিল প্রকল্পটি। পাল্টা জল শোধনাগার থেকে টালা পাম্পিং স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত পুরনো ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের প্রধান জলের লাইনটি বন্ধ করে একটি নতুন ৭২ ইঞ্চি ব্যাসের বিকল্প পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে কেএমসি।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ! ৪৫৭ কিমি হাই-স্পিড রোড করিডোর মঞ্জুর কেন্দ্রের
বরানগর থেকে ব্যারাকপুরের (Baranagar-Barrackpore Metro) মধ্যে রাস্তার নিচে ৬৪, ৭২, ৬০, ৪২, ৪৮ এবং ৬২ ইঞ্চি ব্যাসের প্রায় ছয়টি বড় জলের লাইন উপস্থিত থাকায় প্রকৌশলীদের সামনে নির্মাণকাজ চালানো ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কেএমসি-র এই সবুজ সংকেতের ফলে নতুন লাইন বসানোর পাশাপাশি মেট্রোর মূল পরিকাঠামো তৈরির কাজ সমানতালে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
১২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পুরো পিঙ্ক লাইন করিডোরটি সম্পূর্ণভাবে এলিভেটেড বা উঁচুতে নির্মিত হতে চলেছে। বরানগর মেট্রো স্টেশন থেকে শুরু হয়ে ব্যারাকপুরের মঙ্গল পাণ্ডে টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই রুটে মোট ১০টি এলিভেটেড স্টেশন তৈরি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই পিঙ্ক লাইন চালুর ফলে উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যোগাযোগের চিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে (Baranagar-Barrackpore Metro)। বিশেষ করে বরানগর, কামারহাটি, আগরপাড়া, পানিহাটি, সোদপুর, খরদহ, টাটা গেট, টিটাগড়, তালপুকুর এবং ব্যারাকপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি দ্রুতগতি সম্পন্ন আধুনিক মেট্রো পরিষেবার আওতায় আসবেন। বিটি রোডের নিত্যদিনের যানজট থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধা পাবেন প্রতিদিনের যাত্রী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা।
