যুদ্ধের ময়দানে বিপক্ষ দেশ হিসাবে পাকিস্তানই থাকুক বা চিন – কুছ পরোয়া নেহি! কেন শুনবেন? আসলে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর করে তুলতে এবং দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি সমস্ত ঐতিহ্যবাহী ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি (ToT) প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থাৎ বেসরকারি দেশীয় সংস্থাগুলিও এবার থেকে ডিআরডিও-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে পারবে।
ডিআরডিও (DRDO)-র বড় পদক্ষেপ
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, বিদেশি যন্ত্রাংশ ও অস্ত্রের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বহুগুণ সম্প্রসারিত হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রযুক্তি হস্তান্তরকে শিল্প ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক পর্যায় থেকে সরাসরি শিল্প উৎপাদনে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি “গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর লক্ষ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে শিল্প উৎপাদনে সফল রূপান্তরকে সক্ষম করবে, যা উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ ও উৎপাদনের জন্য ভারতীয় শিল্পের সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে ডিআরডিও-র (DRDO) ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।
আরও পড়ুন: ‘কুম্ভমেলার ১% পেলেই বাঁচত ১২৫টি স্কুল!’ রাজ্যকে তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির
গৃহীত এই নতুন উদ্যোগের অধীনে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, নিরাপত্তা শংসাপত্র এবং নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি পূরণ করার শর্তে ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন শুরু করতে পারবে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপর প্রধান উদ্দেশ্য হল ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তিকে শক্তিশালী করা এবং সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
এর পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত অংশীদারদের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সম্পর্কিত সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) অংশ নেওয়ার এক বিশাল সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। মন্ত্রক আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, এই উদ্যোগটি ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তির সংযোজন বাড়াতে সাহায্য করবে। আগামী দিনগুলিতে তাই প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজতর করতে ডিআরডিও ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে মন্ত্রক (DRDO)।
View this post on Instagram
