পশ্চিমবঙ্গ থেকে সোজা চলে যাওয়া যাবে অন্ধ্রপ্রদেশ। একটি বিশাল হাই-স্পিড রোড করিডোরের (Greenfield Corridor) অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই রাস্তা বাংলার সঙ্গে সরাসরি অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানীকে যুক্ত করবে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের (MoRTH) অ্যালাইনমেন্ট অনুমোদন কমিটি অন্ধ্রপ্রদেশের অভ্যন্তরে খড়গপুর থেকে অমরাবতী পর্যন্ত ৪৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যালাইনমেন্টের ছাড়পত্র দিয়েছে।
খড়গপুর থেকে অমরাবতী যুক্ত হবে (Greenfield Corridor)
হাইওয়েটি পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুরকে সরাসরি আগিরিপল্লীর কাছে অমরাবতী আউটার রিং রোডের (Greenfield Corridor) সাথে সংযুক্ত করবে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। সম্পূর্ণ নতুন এই গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে মোট ১,১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ— এই চারটি রাজ্যকে সংযুক্ত করবে এই রাস্তা। ফলে একটি বিশাল গণপরিবহণ নেটওয়ার্ক যে তৈরি হবে তা বলাই বাহুল্য। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়ক প্রকল্পটির শুধুমাত্র অন্ধ্রপ্রদেশ অংশের কাজ সম্পন্ন করতেই আনুমানিক ৩২,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
আরও পড়ুন: মৃত্যুর জন্য কাকে দায়ী করলেন? সুইসাইড নোটে বলে গেলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকল্পের সার্বিক বাজেটের চিত্র তুলে ধরে কর্মকর্তারা বলেন, “অংশগ্রহণকারী চারটি রাজ্য জুড়ে এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ৭৫,৬২৯ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এই পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের জন্য ৫৫,৭৭২ কোটি টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচির জন্য ৮,৯৮২ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।” এর পাশাপাশি তাঁরা আরও যোগ করেন, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক অনুমোদন পাওয়া যাবে।
এই উচ্চ-গতির হাইওয়েটি প্রত্যন্ত উপজাতীয় অঞ্চল, গোদাবরী জেলা এবং অমরাবতীকে একটি দক্ষ সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের পার্বতীপুরম, মান্যম, আলুরি সীতারামারাজু, পোলাভারম, পূর্ব গোদাবরী এবং এলুরু জেলার মধ্য দিয়ে এই পথটি যাবে। সেই সাথে এটি কুরুপম, সালুরু, মাককুভা, আরাকু, পাদেরু, চিন্তাপল্লী, গোকাভারম, কান্নাপুরম, জাঙ্গারেদ্দিগুডেম, লাক্কাভারম, দেবরাপল্লী, কামাভারপুকোট, দ্বারকা তিরুমালা এবং নুজিভেদুর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরকে সংযুক্ত করবে।
ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে (Greenfield Corridor) এবং প্রতিটি এলাকায় একজন যুগ্ম কালেক্টর নির্দিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সব জেলার মনোনয়নপত্র কেন্দ্রে পাঠানোর পর আনুষ্ঠানিক গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। কর্মকর্তাদের মতে, “করিডোরটি নির্মাণের জন্য মোট ১০,৬৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, যার মধ্যে ২,৩৭১ হেক্টর শ্রেণীবদ্ধ বনভূমি রয়েছে।” মহাসড়কটির চওড়া ৯০ মিটার রাখা হবে এবং এর কাঠামোগত নকশা এমনভাবে তৈরি হচ্ছে যাতে ভারী যানবাহনও ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে।
