ভারতের প্রিমিয়াম ও স্পোর্টি স্কুটারের বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে এক বড় পদক্ষেপ নিল হোন্ডা মোটরসাইকেল অ্যান্ড স্কুটার ইন্ডিয়া। দেশীয় বাজারে সংস্থা তাদের বহুপ্রতীক্ষিত ‘এডিভি ১৬০’ (2026 Honda ADV 160) ম্যাক্সি-অ্যাডভেঞ্চার স্কুটারটি সর্বসমক্ষে উন্মোচন করেছে। মজার বিষয়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মডেলটি ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হতে পারে বলে খবর। এই নতুন উন্মোচনের মধ্য দিয়ে হোন্ডা অবশেষে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল প্রিমিয়াম স্পোর্টি স্কুটার বিভাগে পা রাখল। ভারতের বাজারে এডিভি ১৬০ সরাসরি হিরো জুম ১৬০, ইয়ামাহা অ্যারক্স ১৫৫ এবং এপ্রিলিয়া এসআর ১৭৫-এর মতো জনপ্রিয় মডেলগুলির তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে।
Honda ADV 160 আত্মপ্রকাশ করল
হোন্ডা এডিভি ১৬০-এর (Honda ADV 160) সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর অ্যাডভেঞ্চার-অনুপ্রাণিত ব্যতিক্রমী ডিজাইন, যা এটিকে সাধারণ স্কুটারগুলির থেকে একেবারেই আলাদা করে তোলে। এতে দেওয়া হয়েছে একটি লম্বা অ্যাডজাস্টেবল বা সমন্বয়যোগ্য উইন্ডস্ক্রিন, জোড়া এলইডি হেডল্যাম্প, পেশীবহুল বডিওয়ার্ক, হ্যান্ডগার্ড, একটি আরামদায়ক স্টেপড সিট এবং চমৎকার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স। এই সবকটি উপাদান স্কুটারটিকে একটি বেশ রাফ অ্যান্ড টাফ বা সুদৃঢ় অ্যাডভেঞ্চার লুক প্রদান করে।
যান্ত্রিক কাঠামোর দিক থেকে এতে একটি শক্তপোক্ত স্টিল ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে। বাইকটির সামনের দিকে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনের দিকে টুইন শক্ অ্যাবসর্বার সাসপেনশন দেওয়া হয়েছে। ব্রেকিং ব্যবস্থার সুরক্ষায় এতে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস সহ সামনে ও পেছনে উভয় চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে। চাকা হিসেবে সামনের দিকে একটি ১৪-ইঞ্চি এবং পেছনের দিকে একটি ১৩-ইঞ্চির হুইল ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Kia Syros EV নাকি Tata Punch EV, কোন বৈদ্যুতিক সাব-কম্প্যাক্ট এসইউভি-টি সেরা?
নতুন এডিভি ১৬০ (Honda ADV 160) মডেলটির ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে রয়েছে একটি ১৫৬.৯ সিসি-র একক সিলিন্ডার বিশিষ্ট, লিকুইড-কুল্ড ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১৬.০৯ বিএইচপি পাওয়ার এবং ১৪.৯ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কথা মাথায় রেখে ইঞ্জিনটিকে ই৮৫ জ্বালানি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে এবং এর সাথে একটি মসৃণ সিভিটি গিয়ারবক্স যুক্ত করা রয়েছে। মাইলেজ ও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এতে হোন্ডার ঐতিহ্যবাহী আইডল স্টার্ট-স্টপ সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আধুনিক ফিচারের দিক থেকেও হোন্ডার এই নতুন ম্যাক্সি-অ্যাডভেঞ্চার স্কুটারটি বেশ সমৃদ্ধ। এতে একটি সম্পূর্ণ রঙিন টিএফটি ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে, যা হোন্ডা রোডসিঙ্ক সমর্থন করে। এর ফলে চালক সহজেই টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন সুবিধা পাবেন। এছাড়াও রাইডারদের সুবিধার্থে এতে রয়েছে একটি ইউএসবি চার্জিং সকেট, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল প্রযুক্তি বা ‘হোন্ডা সিলেক্টেবল টর্ক কন্ট্রোল’ এবং ২৭ লিটারের বিশাল আন্ডার-সিট স্টোরেজ কম্পার্টমেন্ট, যেখানে অনায়াসেই একটি ফুল-ফেস হেলমেট রাখা সম্ভব।
সব মিলিয়ে এডিভি ১৬০-এর (Honda ADV 160) মাধ্যমে প্রিমিয়াম স্কুটার বিভাগে হোন্ডা এখন বেশ শক্ত অবস্থানে চলে এলো। এই ক্যাটাগরিতে ইয়ামাহা অ্যারক্স ১৫৫ এতদিন পারফরম্যান্সের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও, হোন্ডা এডিভি ১৬০ তার নিজস্ব অ্যাডভেঞ্চার-ট্যুরিং ডিজাইন, বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের দারুণ উপযোগিতা দিয়ে বাজারে নিজস্ব জায়গা তৈরি করে নেবে বলে মনে করছেন অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা।
