সুদীর্ঘ আইনি লড়াই ও দীর্ঘ কারাবাসের পর অবশেষে মুক্ত জীবনের স্বাদ পেলেন ১০৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। নাম রসিক চন্দ্র মন্ডল (Rasik Chandra Mondal Case)। এক হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া এই শতবর্ষী ব্যক্তির বয়স এবং জরাজীর্ণ শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর অবশিষ্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ মকুব করে মামলাটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিচার চলাকালীন আদালতের বেঞ্চ বিস্ময় প্রকাশ করে জানায় যে, জীবনের সেঞ্চুরি পার করেও তিনি যেভাবে আদালতের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন, তা সত্যি অভাবনীয়।
মুক্তি পেলেন রসিক (Rasik Chandra Mondal Case)
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারকের বেঞ্চ রসিক চন্দ্র মণ্ডলের মামলাটি নিষ্পত্তি করে তাঁর সাজা মকুবের আদেশ দেয়। বেঞ্চের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্দেশ দিয়ে বলেন, “যদি তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ পুরোপুরি শেষ নাও হয়ে থাকে, তাহলেও তাঁকে আর নতুন করে হেফাজতে নেওয়া যাবে না।” এই নির্দেশের পাশাপাশি ২০২৪ সালে মণ্ডলকে (Rasik Chandra Mondal Case) দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশটিকেও স্থায়ী ও চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করে সর্বোচ্চ আদালত।
আরও পড়ুন: প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কড়া নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর! এক ধাক্কায় এনটিএ-র ৫০ জন কর্মী ছাঁটাই
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯২০ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় রসিক চন্দ্র মণ্ডলের জন্ম হয়। ১৯৮৮ সালে জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের ভাই সুরেশ মণ্ডলকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে যখন তাঁর বয়স ৭৪ বছর, তখন নিম্ন আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর সাজা বহাল রাখে এবং সুপ্রিম কোর্টও পরবর্তীতে আপিল আবেদনটি খারিজ করে দেয়। সেই থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
অবশেষে ২০২০ সালে, ৯৯ বছর বয়সে রসিক চন্দ্র মণ্ডল (Rasik Chandra Mondal Case) বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনা করে মেয়াদপূর্ব মুক্তির আবেদন জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২১ সালের মে মাসে শীর্ষ আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এই বিষয়ে নোটিশ পাঠায়। দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল। এবার সেই অন্তর্বর্তী জামিনকেই চূড়ান্ত রূপ দিয়ে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটাল সর্বোচ্চ আদালত, যার ফলে জীবনের শেষ দিনগুলি একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে অতিবাহিত করার সুযোগ পেলেন এই শতবর্ষী বৃদ্ধ।
