চৈত্র মাসের শেষ লগ্নে বাংলার প্রকৃতি (WB Weather Update) অন্যরূপ। গ্রীষ্মের দাবদাহ মেটাতে চৈত্রের কালবৈশাখী কার্যত আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রকোপে নাজেহাল দশা রাজ্যবাসীর। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের শুরুতেই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে তেলঙ্গানা পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখার টানেই সাগর থেকে হু হু করে ঢুকছে জলীয় বাষ্প, যার জেরে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির (WB Weather Update) প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং বৃষ্টির তীব্র দাপট দেখা যেতে পারে। হাওয়া অফিসের এক আধিকারিক এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, “উপযুক্ত বায়ুপ্রবাহ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা প্রবেশের কারণে রাজ্যে বজ্রঝড়ের প্রবণতা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আজ ফের দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।”
কলকাতার জন্য জারি করা বিশেষ বুলেটিনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, আজ শহরের আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হতে পারে। এর ফলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া বইবার সম্ভাবনা প্রবল। ৮ এবং ৯ এপ্রিল রাজ্যের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এই সব এলাকায় ঝড়ের প্রাবল্য জনজীবনে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গ্যাস সিলিন্ডারের কালো বাজারি রুখতে ইন্ডিয়ান অয়েলের কড়া পদক্ষেপ, কী জানাল সংস্থা
বিপজ্জনক এই আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিকরা সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “বজ্রঝড়ের সময় দয়া করে খোলা জায়গায় থাকবেন না। গাছ কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। জলাশয় থেকে দূরে থাকুন এবং যতটা সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার চেষ্টা করুন।” এই সতর্কবার্তা মূলত বজ্রপাতের হাত থেকে প্রাণহানি রুখতেই জারি করা হয়েছে।
তবে এই দুর্যোগ (WB Weather Update) খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯ এপ্রিলের পর থেকে রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। এরপর কয়েক দিন আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে এবং তাপমাত্রার পারদ ফের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, পহেলা বৈশাখের আগে গরমের দাপট পুনরায় ফিরে আসতে পারে। চৈত্রের এই সাময়িক বৃষ্টি সাধারণ মানুষকে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, ঝড়-বৃষ্টির দাপটে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
চৈত্র সংক্রান্তির (WB Weather Update April) শেষ লগ্নে এসে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া যখন চূড়ান্ত অস্বস্তিকর হয়ে…
সোমবার নয়ডায় শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের (UP govt hikes daily wages) জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এনসিআর-এর…
১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার: আজ মঙ্গলবার বাংলা বছরের শেষ দিন (Rashifal Bangla) অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি।…
ভারতের মোটরসাইকেল বাজারে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে বাজাজ অটো তাদের জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ বাইক ডোমিনার ৪০০-এর একটি…
ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle Cremated…
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (পূর্বনাম টুইটার) তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য (Elon Musk's X…