NEET UG 2026

ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট ইউজি ২০২৬ (NEET UG 2026)-এর ফলাফল প্রকাশের পর এখন চিকিৎসা শাস্ত্রের সমস্ত পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের নজর ‘মেডিকেল কাউন্সেলিং কমিটি’ (MCC) এবং বিভিন্ন রাজ্যভিত্তিক কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার দিকে। প্রায়শই দেখা যায় যে, পরীক্ষায় চমৎকার স্কোর হাসিল করার পরেও অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী কাউন্সেলিংয়ের সময় তাড়াহুড়ো বা সঠিক তথ্যের অভাবে নিজেদের পছন্দের এমবিবিএস সিটটি হাতছাড়া করে ফেলেন। আপনি যদি এই বছর কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে যান, তবে চয়েস ফিলিংয়ের সময় ৫টি বড় ভুল এড়িয়ে চলা আপনার ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, দেশে নতুন সিট ম্যাট্রিক্স অনুযায়ী আরও ৯,৯১১টি নতুন এমবিবিএস সিটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশজুড়ে মোট এমবিবিএস সিটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩৬,৯৩৯-তে।

১. শেষ তারিখ বা শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করা (NEET UG 2026)

কাউন্সেলিংয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা, ফি জমা দেওয়া এবং কলেজগুলির পছন্দের তালিকা (চয়েস ফিলিং) জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়। অনেক পরীক্ষার্থী ভাবেন যে এখনও হাতে যথেষ্ট সময় আছে এবং তাঁরা শেষ দিনে গিয়ে ফর্ম ফিলাপ করতে শুরু করেন। শেষ মুহূর্তে একসঙ্গে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পোর্টালে লগইন করায় সার্ভার ডাউন হয়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি থাকে, যার ফলে ফি আটকে যাওয়া বা ফর্ম জমা না হওয়ার মতো বিপত্তি ঘটতে পারে। তাই সময়সীমা শেষ হওয়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

২. কলেজ পছন্দের ভুল ক্রম বা ভুল অর্ডার অব প্রেফারেন্স

কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার (NEET UG 2026) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল কলেজগুলির সঠিক অর্ডার অব প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকারের তালিকা নির্ধারণ করা। অনেক শিক্ষার্থী সঠিক বিবেচনা না করে কিংবা কেবল নামের ওপর ভিত্তি করে কম পছন্দের কোনো কলেজকে তালিকার উপরের দিকে রেখে দেন। ফলে প্রথম পছন্দের চয়েসেই যদি কোনো কম পছন্দের কলেজ অ্যালট হয়ে যায়, তবে পরবর্তী রাউন্ডগুলিতে তুলনামূলক ভালো কলেজ পাওয়ার পথ অনেকটাই বন্ধ বা সীমিত হয়ে যায়। নিজের স্কোর এবং বিগত বছরের কাট-অফ নম্বর পর্যবেক্ষণ করেই কলেজ নির্বাচন করা উচিত।

আরও পড়ুন: Kia Syros EV নাকি Tata Punch EV, কোন বৈদ্যুতিক সাব-কম্প্যাক্ট এসইউভি-টি সেরা?

৩. নিজের দেওয়া চয়েস ‘লক’ না করা

নিজের পছন্দ অনুযায়ী কলেজগুলির তালিকা তৈরির পর শিক্ষার্থীদের তাঁদের পছন্দ করা তালিকাটি ‘Lock’ করতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা কেবল ড্রাফট সেভ করে পোর্টাল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। যদিও শেষ তারিখে সিস্টেম থেকে এটি অটো-লক হয়ে যায়, তবুও শেষ মুহূর্তের যেকোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা টেকনিক্যাল গ্লিচ এড়াতে নিজের দায়িত্বে ভালোভাবে পরীক্ষা করে নির্ধারিত সময়ে চয়েস লক নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

৪. বন্ড পলিসি ও ফি স্ট্রাকচারকে গুরুত্ব না দেওয়া

দেশের প্রতিটি রাজ্য এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজের নিয়মকানুন, সার্ভিস বন্ড এবং ফি স্ট্রাকচার সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। যেকোনো কলেজকে নিজের পছন্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আগে সেই প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ফি, হোস্টেল খরচ এবং গ্রামীণ পরিষেবা সংক্রান্ত বন্ডের শর্তাবলী ভালোভাবে পড়ে নিন, যাতে সিট অ্যালটমেন্ট পাওয়ার পর কোনো অনুশোচনা না থাকে।

৫. নথিপত্র এবং যোগ্যতার মানদণ্ডে অবহেলা

কাউন্সেলিং চলাকালীন নিজের সমস্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট, ক্যাটেগরি সার্টিফিকেট এবং পরিচয়পত্র সম্পূর্ণরূপে তৈরি ও আপডেট রাখুন। ভুল বা মেয়াদউত্তীর্ণ কোনো নথি আপলোড করলে আপনার সিট অ্যালটমেন্ট বাতিল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

ভারতের শীর্ষ ৫টি মেডিকেল কলেজ কোনগুলি?

১. অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS), দিল্লি
২. পিজিআইএমইআর (PGIMER), চণ্ডীগড়
৩. ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (CMC), ভেলোর
৪. জিপমের (JIPMER), পুদুচেরি
৫. সঞ্জয় গান্ধী পোস্টগ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (SGPGIMS), লখনউ

আরও পড়ুন: স্লিপার ক্লাচ ও ইউএসবি টাইপ-সি চার্জার সহ ভারতে লঞ্চ হল নতুন ক্লাসিক ৩৫০, জানুন এর দাম ও ফিচার্স

বুঝে নিন নিট কাউন্সেলিংয়ের সম্পূর্ণ সমীকরণ

নিট পরীক্ষায় (NEET UG 2026) উত্তীর্ণ সমস্ত পরীক্ষার্থী এখন মেডিকেল কাউন্সেলিং কমিটি (MCC) এবং নিজ নিজ রাজ্যের কাউন্সেলিং কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিটের জন্য আবেদন জানাবেন। এই পুরো কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি মূল ভাগে বিভক্ত:

১৫% অল ইন্ডিয়া কোটা (AIQ): এর অধীনে সারা দেশের সমস্ত সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ১৫% সিটের পাশাপাশি এমস (AIIMS), জিপমের (JIPMER), ডিম্ড এবং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিগুলির ১০০% সিটে ভর্তি নেওয়া হয়। এই কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া পরিচালনা করে এমসিসি (MCC) তাদের নিজস্ব অফিসিয়াল ওয়েবসাইট mcc.nic.in-এর মাধ্যমে।

৮৫% স্টেট কোটা: প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব কাউন্সেলিং (NEET UG 2026) কর্তৃপক্ষ বাকি ৮৫% সিটের জন্য রাজ্যভিত্তিক কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন করে, যেখানে কেবল সেই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা বা মূল নিবাসী শিক্ষার্থীরাই অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এই রাজ্যভিত্তিক কাউন্সেলিং মূলত চারটি রাউন্ডে সম্পন্ন হয় – রাউন্ড ১, রাউন্ড ২, মপ-আপ রাউন্ড এবং স্ট্রে ভ্যাকেন্সি রাউন্ড।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved