রাক্ষুসে হড়পা বানে তছনছ নেপাল! ১৯ জনের প্রাণহানি সহ নিখোঁজ প্রায় ৪০০
ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) লন্ডভন্ড নেপালের রসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবার সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে ধেয়ে আসা আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক ও ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয় সহ প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ। প্রবল জলের তোড়ে কোশী নদীর আশেপাশের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হড়পা বানে তছনছ নেপাল (Nepal Flash Floods)
তিব্বতের গিরং পোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, উচ্চ অববাহিকা থেকে কাদা, পাথর ও আবর্জনার এক বিশাল জলোচ্ছ্বাস অতি দ্রুত গতিতে নেমে এসে একটি পার্কিং লটকে নিমেষে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পার্ক করে রাখা গাড়িগুলি জলের স্রোতে তলিয়ে যেতে দেখা যায় এবং চারপাশে ধূলিকণা ও কুয়াশার আস্তরণ তৈরি হয়। বিপদ বুঝে স্থানীয় মানুষজন এবং পর্যটকেরা আত্মরক্ষায় ছোটাছুটি শুরু করলেও চোখের পলকে সীমানা সংলগ্ন পুরো এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায় প্লাবনের জল (Nepal Flash Floods)।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ তিব্বতের দিক থেকে ভোট কোশী নদীতে এই বান আসে। এর প্রভাবে তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়া ও ধাদিং জেলার পাশাপাশি কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নুওয়াকোট জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক সহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধাকে হারিয়ে আবেগঘন পোস্ট মমতার! আশিসের প্রয়াণে তদন্তের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
নিখোঁজ এই বিদেশি পর্যটকদের তালিকায় ১০৫ জন ভারতীয় ও ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় ছাড়া আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের নাগরিকরা রয়েছেন। ট্রাভেল এজেন্সি ‘সম্রাট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে অন্তত ৫৯ জন কৈলাশ মানসরোবর যাত্রার পুণ্যার্থী ছিলেন।
দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করেছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির পুরো মাত্রা এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি, তবে বন্যার রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এটি বহু জনবসতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নদী তীরবর্তী এলাকায় যারা অবস্থান করছেন, তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য আমরা নির্দেশ জারি করেছি… এবং আমাদের সমস্ত সম্পদ উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।” পর্বতসংকীর্ণ উপত্যকা বেয়ে ধেয়ে আসা নদীর ঘোলা জলের নারকীয় তাণ্ডবের (Nepal Flash Floods) একের পর এক দৃশ্য এখন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষাকালে দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে এই ধরণের বন্যা ও ধসের ঘটনা দেখা যায়, উল্লেখ্য গত বছরের জুলাই মাসেও এই গিরং পোর্টের কাছেই এক কাদা ধসে ১৭ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন।
A horrific scene of severe flooding at the Rasuwagadhi border point on the Nepal-Tibet border.
The strong currents wreaked havoc across the area, leaving 400 pilgrims and 105 Indian tourists also missing in the Nepal floods.#NepalFloods #Nepal #Rasuwa #FlashFlood #Floods pic.twitter.com/dwAX12Gj7l— Ravi Pandey🇮🇳 (@ravipandey2643) August 26, 2026
